বুধবার

৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হোল্ডিং কার্ডের নামে 'অতিরিক্ত টাকা' আদায়ের অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৪

শেয়ার

তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হোল্ডিং কার্ডের নামে 'অতিরিক্ত টাকা' আদায়ের অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নতুন হোল্ডিং কার্ড ইস্যুর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি সেবার আড়ালে প্রতি পরিবার থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন হোল্ডিং কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৩০০ টাকা করে আদায় করছেন। অনেককে জানানো হচ্ছে, এই কার্ড না নিলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে জটিলতা হতে পারে। এমন আশঙ্কা তৈরি করে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি হোল্ডিং কার্ড প্রস্তুতে প্রকৃত ব্যয় যদি অনেক কম হয়, তাহলে কোন আইন, নীতিমালা বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতি পরিবার থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে? এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা নির্ধারিত ফি-তালিকাও দেখানো হয়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, হোল্ডিং কার্ড ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় হওয়ায় অনেকেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও টাকা দিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বেই এই অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি পরিষদে বিভিন্ন কাজে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী গীতা রানী বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসে বলেছে ৩০০ টাকা দিয়ে হোল্ডিং কার্ড নিতে হবে। আবার বাড়ির খাজনাও ৮০০ টাকা দিতে হবে। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। আগে খাজনা দেব, নাকি কার্ডের টাকা দেব? কার্ডের জন্য এত বেশি টাকা কেন নেয়া হবে? আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।"

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সরকারি ফি ও সেবার মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখা এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু থাকলে এ ধরনের অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা বাড়ানোরও দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রকাশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে বলেন, "এটা আমরা হোল্ডিং কার্ডের জন্য নিয়েছি। অফিসে আসেন, সরাসরি কথা বলব।" তবে কোন সরকারি আদেশ বা ফি-তালিকার ভিত্তিতে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অনিয়ম করে থাকলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।"



আরও পড়ুন:

banner close
banner close