মঙ্গলবার

৪ আগস্ট, ২০২৬ ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে এটিওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৬

শেয়ার

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে এটিওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার।

অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লকের বরাদ্দ এনে দেয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঘুষ না দেওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ) বরাদ্দের চেকে স্বাক্ষর করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ভাউচারসহ সব কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সরকারি বরাদ্দের অর্থও সুকৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও বিদ্যালয়ভিত্তিক মোবাইল সিম নিজের কাছে রেখে দেয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুমালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানানো হলেও উল্টো তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার বলেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।”

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত তার কার্যালয় থেকেই নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



banner close
banner close