নাটোরের বড়াইগ্রামে মোঃ হাসান আলী (২৮) নামে এক টাইলস ব্যবসায়ীকে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও মারপিট করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়াসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ মিনারুল ইসলাম জনি (৩৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। জনি বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান আলী উপজেলার হারোয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, হাসান বনপাড়া বাজারে টাইলস ও সেনেটারি সামগ্রীর ব্যবসা করেন। প্রায় চার মাস পূর্বে মাঝগ্রাম বউবাজার এলাকার শুকুর আলীর মেয়ে দোলনা খাতুন (৪০) তার দোকান থেকে ১৯ হাজার টাকা টাইলস বাঁকিতে নেন। এর মধ্যে একাধিকবার চাইলেও তিনি নানা অজুহাতে টাকা পরিশোধ করেননি।
পরে গত ১৯ জুলাই পুনরায় টাকার জন্য চাপ দিলে দোলনা তাকে বাড়িতে গিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। হাসান সে অনুযায়ী সকাল ১০ টায় দোলনার বাড়িতে টাকা আনতে যান। এ সময় তাকে ঘরে বসতে দিয়ে দোলনা পূর্বে থেকে বাড়ির অন্য ঘরে থাকা মিনারুল ইসলাম জনি সহ আরো ৪-৫ জন যুবককে নিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন। একপর্যায়ে তাকে নগ্ন করে দোলনার সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন।
পরে এ ভিডিও আত্মীয়-স্বজনসহ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হুমকি দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে তারা হাসানের মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে বিকাশ একাউন্ট থেকে ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড দিয়ে বনপাড়া বাজারের বুথ থেকে আরো ২৭ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরে তারা দোকানে গিয়ে কর্মচারীর সঙ্গে হাসানকে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিয়ে আরো ৬০ হাজার টাকার টাইলস নিয়ে যায়।
এরপর অভিযুক্তরা একটি ফাঁকা স্ট্যাম্প হাসানের সই নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি রেখে দিয়ে প্রায় ১১ ঘন্টা পরে রাত ৯ টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়।
পরের দিন অবশিষ্ট টাকার না দিলে অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয় হাসান দোলনার বাড়িতে গিয়ে আরো ৯০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। কিন্তু এরপরেও তার মোটরসাইকেলের ফেরত না দেয়ায় গত ২৯ জুলাই তিনি সেটি ফেরত চান। তখন মোটর সাইকেলের জন্য আরো টাকা দাবি করলে তিনি সেদিনই ৪০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। কিন্তু তারা মোটর সাইকেল না দিয়ে রোববার রাতে দাবিকৃত টাকার অবশিষ্ট অংশ নিতে মিনারুল ইসলাম জনি দোকানে এলে হাসান কৌশলে পুলিশ ডেকে তাকে ধরিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন:



.jpg)




