টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন জন্মের পরই বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত হন। আত্মীয়-স্বজনও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, দুবেলা জোটে না খাবার। তবুও তিনি ভিক্ষার থালা হাতে নেননি। আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার এবং একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান চান তিনি।
পৃথিবীতে আসার মাত্র ৪০ দিনের মাথায় আনোয়ার হোসেন বাবাকে হারান। ছয় মাস বয়সে মা-ও তাকে ফেলে নতুন সংসারে চলে যান। এরপর আর কোনোদিন সন্তানের খোঁজ নেননি। মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত আনোয়ারের শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রামপুর চতিলা গ্রামে দাদা-দাদির স্নেহে।
পরিত্যক্ত ভবনে মানবেতর জীবন
প্রায় ১০ বছর আগে দাদির মৃত্যুর পর অসুস্থ দাদা মেয়ের বাড়িতে চলে যান। এরপর শারীরিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার একেবারেই একা ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। স্বজনদের কাছে ঠাঁই না পেয়ে তার ঠিকানা হয় নগদাশিমলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবন। জরাজীর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
অন্যের দেওয়া তিন চাকার একটি ছোট গাড়িতেই আনোয়ারের চলাচল। এলাকার মানুষ খাবার দিলে তার আহার জোটে, না দিলে সারাদিন অনাহারে কাটে। জীবনের এত বঞ্চনা ও ক্ষুধা সত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেননি। করুণার পাত্র হয়ে নয়, নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে চান তিনি।
নিরাপদ আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের দাবি
আনোয়ারের আত্মমর্যাদাবোধ ও অসহায়ত্ব এলাকাবাসীকেও নাড়া দিয়েছে। তার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নজরে আসার পর গোপালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোখলেছ মিয়া আনোয়ারকে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
মানবিকতার দায়বদ্ধতা থেকে আনোয়ারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার প্রত্যাশা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন:








