রবিবার

২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বয়স্ক ভাতার প্রলোভনে হেবা দলিল, বৃদ্ধা মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৩

শেয়ার

বয়স্ক ভাতার প্রলোভনে হেবা দলিল, বৃদ্ধা মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে
ছবি: বাংলা এডিশন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে সরকারি বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বৃদ্ধা মায়ের কাছ থেকে জমি হেবা দলিল করে নেওয়া এবং পরে তাকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।

ভুক্তভোগী ছালেহা বেগম চৌধুরী (৮৪) উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল মুন্সিখীল চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।

ছালেহা বেগম অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মেয়ে জামিলা আক্তার তাকে বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে জমির কাগজ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রয়োজন এবং কিছু কাগজে টিপসই দিতে হবে। মেয়ে ও জামাতার কথায় বিশ্বাস করে তিনি সাদা স্ট্যাম্প ও দলিলে টিপসই দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সেটি বয়স্ক ভাতার কোনো কাগজ ছিল না; বরং তার ২ গন্ডা ১ ক্রান্তি ১ তিল জমি মেয়ের নামে হেবা দলিল করে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম শহরে ছেলের বাসায় থাকার পর গত ১৫ জুন বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। পরে ছোট ছেলেকে নিয়ে খোঁজখবর করে জানতে পারেন, তার অজান্তে একটি হেবা ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং বর্তমানে বাড়ির সামনের বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় তিনি হেবা ঘোষণাপত্র বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ (সিভিল) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জামিলা আক্তারের স্বামী মনিরুজ্জমান। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমি বাড়িটি সংস্কার করেছি এবং শাশুড়ির দেখাশোনা করেছি। তার অন্য এক ছেলেকেও আমার নিজস্ব অর্থে থাকার জন্য ঘর করে দিয়েছি। প্রায় ছয় বছর আগে আমার শাশুড়ি স্বেচ্ছায় মেয়ের নামে ২ গন্ডা ১ ক্রান্তি ১ তিল জমি হেবা করে দেন। এখন অন্য সন্তানদের প্ররোচনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। আদালত যদি হেবা দলিল বাতিল করেন, তাহলে ওই জমির ওপর আমরা আর কোনো দাবি করব না।'

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, 'এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বৃদ্ধা নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close