শনিবার

১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৯

আপডেট: ১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৫

শেয়ার

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

কিশোরীর চাচা জানায়, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট বোন ও ছোট ভাই সঙ্গে ছিল। রাত ১টায় দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীকালে কিশোরীকে তুলে নিয়ে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এলাকারবাসি সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দৃর্বৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে দুই জনকে আটক করে। পরে গণপিটুরি দিয়ে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন, একই এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা ও টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে ঘরের জানালা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়। আমি এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিচার চাই। কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শামছুল আজম বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এলাকাবাসী যে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তারা বর্তমানে থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।



banner close
banner close