শনিবার

১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে এস আলমের সব কারখানা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৫৩

শেয়ার

চট্টগ্রামে এস আলমের সব কারখানা বন্ধ
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব উৎপাদনমুখী কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে তা কার্যকর হয়েছে।

দেশের অন্যান্য স্থানে থাকা এস আলম গ্রুপের কারখানাগুলোতেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকা

বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, কেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েল।

এসব কারখানার বেশির ভাগই কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরের মইজ্জ্যারটেক শিল্প এলাকায় অবস্থিত।

নোটিশ দিয়ে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশ টানানো হয়। সিদ্ধান্ত জানার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, শুধু চিনিকল নয়, গ্রুপটির প্রায় সব উৎপাদনমুখী কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদেরই ছাঁটাই করা হয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন না থাকায় কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে।

কাঁচামাল সংকটে কমে যায় উৎপাদন

কারখানার শ্রমিকদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এস আলম গ্রুপের শিল্প কার্যক্রম সংকটে পড়ে। আর্থিক ও পরিচালনাগত নানা সমস্যার পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় ধীরে ধীরে উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়।

উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কোম্পানি একাধিকবার চেষ্টা করলেও আমদানি করা কাঁচামালের ধারাবাহিক সংকটের কারণে তা সফল হয়নি।

কিছু শ্রমিক পাওনা পেয়েছেন

শিল্প পুলিশ-৩ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, শুক্রবার ছাঁটাই হওয়া কিছু শ্রমিক তাদের পাওনা বুঝে পেয়েছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বন্ধ থাকা এস আলমের কয়েকটি কারখানার কিছু শ্রমিক তাদের পাওনা পেয়েছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। তবে এস আলমের সব কারখানা বন্ধ হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো পাননি। কারখানা কর্তৃপক্ষ পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

আগেও বন্ধ ছিল কয়েকটি কারখানা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যাংকিং-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে এর আগেই কয়েকটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। কিছু কারখানা মজুত কাঁচামাল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে অল্প সময়ের জন্য উৎপাদন চালু করেছিল।

এরই মধ্যে কিছু শ্রমিক-কর্মচারীকেও ছাঁটাই করা হয়েছিল। তবে এবারই প্রথম সব কারখানার উৎপাদন একযোগে পুরোপুরি বন্ধ হলো।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামসংবলিত একটি নোটিশ টানানো হয়। এতে বলা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

আগের বন্ধ ও পুনরায় চালুর ঘটনা

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপ গভীর সংকটে পড়ে এবং ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাদের নয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সে সময় এসব কারখানায় প্রায় ১৩ হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কারখানাগুলো আবার চালু করা হয়। তবে কাঁচামালের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছিল।

বর্তমানে এসব কারখানায় ঠিক কতজন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



banner close
banner close