দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মজুরি প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্তভাবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে গণবিক্ষোভ, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক চা শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও যুবক অংশ নেন।
একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন চা বাগানেও ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা।
বাংলাদেশের সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র-যুবকদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন চা শ্রমিক নেতা গীতা রানি কানু। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং দাবি আদায়ে স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এতে চা শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে একটি শ্রমিক পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, অধিকার আদায় এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচিত নেতৃত্বের অভাবে মজুরি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। বক্তাদের মতে, এর মাধ্যমে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা নিজেরাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা। অন্যথায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চা শ্রমিক নেতা সায়মন মুর্মু বলেন, মালিকপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো কার্যকর হতে দিচ্ছে না। চা শ্রমিকদের জীবনমান বিবেচনায় দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি এখন সময়ের দাবি। আমরা দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন:








