হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় স্পিরিট ও চোলাই মদ পানে এক দিনে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পৃথক ঘটনায় মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রীও মারা গেছেন বলে পরিবারের দাবি।
মৃতরা হলেন—লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের মৃত শুভ্রত দাসের ছেলে সুজিত দাস (৩৫), একই গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন দাসের ছেলে সুদেব দাস (৬০), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কামড়াপুর গ্রামের মৃত শীতেন্দ্র কৈরীর ছেলে রঞ্জিত কৈরি (৪০) এবং লাখাই উপজেলার ভাদিকারা মুচিপাড়ার মৃত বিদেশী রবিদাসের ছেলে নন্দলাল রবিদাস (৫০)।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুদেব অনুষ্ঠান উপলক্ষে মোড়াকরি গ্রামে কয়েকজন ব্যক্তি একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকান থেকে আনা মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল স্পিরিট পান করেন। পানকারীদের মধ্যে ছিলেন সুজিত দাস, সুদেব দাস, রঞ্জিত কৈরি ও বিপুল দাস।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্পিরিট পান করার পর প্রথমদিকে তারা স্বাভাবিক ছিলেন। পরে ২৯ জুলাই দুপুরের পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সুজিত দাসকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, সুদেব দাসকে ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রঞ্জিত কৈরি নিজে ঢাকায় চলে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বিপুল দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে লাখাই উপজেলার ভাদিকারা মুচিপাড়ার নন্দলাল রবিদাস অতিরিক্ত চোলাই মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। প্রথমে তাকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে হবিগঞ্জে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নন্দলাল রবিদাসের মৃত্যুর খবর শুনে তার স্ত্রী সুগনি রবিদাস (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র, উপপরিদর্শক আবু কাউছার ও বিপুল চন্দ্র দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মৃতদের মরদেহ সৎকার করা হয়েছিল।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মোড়াকরি গ্রামের ঘটনাটি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন:








