শুক্রবার

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি: নিহত ১, গুলিবিদ্ধ অন্তত ৮

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫১

শেয়ার

বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি: নিহত ১, গুলিবিদ্ধ অন্তত ৮
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে সরকারি খাসজমির মাছের ঘের (প্রজেক্ট) দখল ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৭ থেকে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।

শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় স্থানীয় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সরল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রব্বইত্তার বাড়ির আব্দুল আলীর ছেলে। তিনি মনছুর গ্রুপের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মনছুর গ্রুপের আরও তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন– একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দলিলুর রহমানের ছেলে মো. এনাম , ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আঙ্গুর মিয়ার ছেলে হেলাল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদের ছেলে কাইছার। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, কবির গ্রুপের আরও ৪ থেকে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা মাছের প্রজেক্টের দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, 'দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।'



banner close
banner close