হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন (রোকন)। তিনি অভিযোগে দাবি করেন, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে ছাত্রদল ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেন এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, ফকরুদ্দিন জাকি, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মুস্তফা কামাল এবং ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় উত্তর দিক থেকে এনসিপির একটি মিছিল ঘটনাস্থলে আসে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বাদীর অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে আসামিরা লোহার রড, দা, রামদা, ইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে মোজাক্কির হোসেন ইমন ও মাহফুজ চৌধুরীসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সংঘর্ষের সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে বাদী ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩ (মূল্য ৮০ হাজার টাকা), আহত মোজাক্কির হোসেন ইমনের কাছ থেকে একটি আইফোন-১১ (মূল্য ৬০ হাজার টাকা), মাহফুজ চৌধুরীর কাছ থেকে একটি আইফোন-১৪ (মূল্য ৯০ হাজার টাকা), মাহমুদুল হাসান গাজীর কাছ থেকে একটি স্যামসাং এস-২২ (মূল্য ৮০ হাজার টাকা), রনি ইসলামের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৫ (মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি দলীয় নেতাদের অবহিত করার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল হককে বার বার ফোন করার পরও রিসিভ করেননি।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত এনসিপির নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন।
আরও পড়ুন:








