কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুল বেতন বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবীতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চট্রগ্রামমুলী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া টাকা ৪র্থ দিন ধরে চলা শ্রমিকদের এই বিক্ষোভ রুপ নিয়েছে কিছুটা সহিংসতায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে একাধিকবার ফ্যাক্টরির মুল ফটক ভেঙ্গে ভিতরে ডুকার চেষ্টা করে শ্রমিকরা। এসময় ইট মেরে ফ্যাক্টরীর গ্লাসও ভাঙ্গা হয়।তবে পুলিশের অবস্থানের কারণে গেইট কিছুটা ভাঙ্গলেও ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। টানা ৩ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ ঘটিকায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইউএনওর আশ্বাসে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালে শ্রমিকদের আন্দোলণ শেষে দাবী মানার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু সেই দাবগুলোর অধিকাংশই মানা হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭শে জুলাই সোমবার কাজ বন্ধ করে বেতন ভাতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করাসহ ৭ দফা দাবীতে আন্দোলনে নামে তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, শ্রমিকদের দাবী মানাসহ ফ্যক্টরীতে প্রবেশ করে কাজে অংশগ্রহণ করা শ্রমিকদের একাংশকে ফ্যাক্টরী থেকে বের করে দিতে হবে। নাহয় তারা মহাসড়ক অবরোধ ছাড়বে না।
ফ্যাক্টরীর মালিক গোলাম মোস্তফার দাবী শ্রমিকদের চলমান দাবীগুলোর মধ্যে অধিকাংশই সর্বশেষ ২০২৪ সালের আন্দোলন পরবর্তী সময়ে মানা হয়েছে। গত সোমবার থেকে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিএনপি জামায়াতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে দাবী মানার আশ্বাসে শ্রমিক প্রতিনিধিরা মিটিং ত্যাগ করে এবং কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শ্রমিকদের ছোট্ট একটা অংশ আবারো বিশৃঙ্খলা শুরু করে। তিনি আরও জানান, বর্তমান বেতন বাড়ানোর দাবী মানা তার পক্ষে সম্ভব হবেনা। প্রয়োজনে তিনি ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দেয়ারও হুশিয়ারী দেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সাময়িক সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ করে তারা। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আশ্বস্থ করলে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়। শ্রমিকদের আন্দোলতের বিষয়টি দ্রুততর সময়ে সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা।
আরও পড়ুন:








