বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার একটি রিসোর্টে পুলিশের পরিচয় দিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে প্রবেশ করে কর্মচারীদের জিম্মি রেখে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রিসোর্টে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের জামাদারপুকুর এলাকায় অবস্থিত গ্রিন গার্ডেন রিসোর্টে এ ঘটনা ঘটে।
রিসোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের ম্যানেজার মানস মিস্ত্রী শাজাহানপুর থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে জানান, রাত ১২টার দিকে পাঁচ থেকে সাতজন মুখোশধারী ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে রিসোর্টের প্রধান ফটকে আসে। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তারা গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মীকে জানায়, রিসোর্টের ভেতরে একজন আসামি রয়েছে, তাই গেট খুলতে হবে।
গেট খুলতেই রাতের প্রহরী ফেরদৌস মিয়াকে মারধর করা হয়। পরে অপর নিরাপত্তাকর্মী বিমল বড়ুয়ার কাছেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ফেরদৌস মিয়া, তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার মৌ, তাদের সন্তান এবং প্রহরী বিমল বড়ুয়াকে একটি কক্ষে আটকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর দুর্বৃত্তরা রিসোর্টের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি বৈদ্যুতিক ফ্যান, একটি গ্যাসের চুলা, একটি ১২ ভোল্টের বড় ব্যাটারি, দুই নিরাপত্তাকর্মীর দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক কেব্ল খুলে নেয়। পরে রিসোর্টের বাইরে রাখা একটি পিকআপ ভ্যানে করে এসব মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। পরে শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, গ্রিন গার্ডেন রিসোর্টে মালামাল চুরি ও লুটের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
আরও পড়ুন:








