নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে। এতে সভাপতি হিসেবে মো. আমিনুর রহমান বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পার্থ সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, ত্যাগী, কারা নির্যাতিত এবং শিক্ষার অধিকার আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন এমন যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে জমা দিতে হবে। নবগঠিত এ কমিটি আগামী এক বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাপতি মো. আমিনুর রহমান বিশ্বাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এবং সাধারণ সম্পাদক পার্থ সরকার একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী। আমিনুর বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং 'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই পূর্বে বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমিতি এবং শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য, প্রক্টরসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে আমিনুর রহমান বিশ্বাস ও পার্থ সরকারের নাম উল্লেখ ছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ছাত্রীরা আন্দোলনে অংশ নিলে তাদের সাহসিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে আমিনুর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং তাঁর বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে হত্যা, সহিংসতা, সিট ও টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে জননিরাপত্তার স্বার্থে সংগঠনটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
আরও পড়ুন:








