সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত মির্জা আব্দুর রব এবং জমির গ্রহীতা দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা
অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষীদের লিখিত বক্তব্য, গ্রামবাসীর বক্তব্য, বাংলা এডিশনে প্রকাশিত সংবাদের পর্যালোচনা এবং সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম। পরে জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বিধি অনুযায়ী দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু অপরাধী দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত গ্রহীতাকে তার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের রবিবার (১৯ এপ্রিল) প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম ও জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা ভ্যানচালক নুরুল ইসলাম একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে ছেলে বিদেশে উপার্জিত অর্থে দেড় বিঘা কৃষিজমি কেনেন। জমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে থাকা ছেলে কষ্ট করে উপার্জন করে টাকা পাঠিয়ে জমিটি কিনেছে। বসতভিটা ও ওই জমিটুকুই তাদের একমাত্র সম্বল। জমি ফেরত না পেলে জীবনের শেষ সময়ে চরম কষ্টে পড়তে হবে।
বিক্রেতাদের বক্তব্য
জমির বিক্রেতা তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন বলেন, তারা ২০২১ সালের সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কহিত মৌজার দেড় বিঘা কৃষিজমি ফরহাদ আলীর কাছে বিক্রি করেন। তাদের দাবি, দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব প্রতারণার মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি রেজিস্ট্রেশনের পর নুরুল ইসলাম বারবার দলিলের জাবেদা নকল চাইলে দলিল লেখক দীর্ঘ সময় তা দেননি। পরে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪) অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করা হয়। ৫ আগস্টের পর ভূমিসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে খাজনা-খারিজের জন্য ভূমি অফিসে গিয়ে তারা জানতে পারেন, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক হিসেবে মির্জা আব্দুর রবের নাম রয়েছে। যদিও জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসী ফরহাদ আলীর কেনা জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








