জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বগুড়ার শহীদ পরিবারগুলোর জীবনে ন্যায়বিচারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। রাষ্ট্র এবং সময় বদলালেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া কিশোর জুনায়েদ ইসলাম রাতুল ও দর্জি শিমুলসহ ১৬ শহীদের পরিবার আজও বিচারের প্রহর গুনছে।
শহীদ রাতুলের অসমাপ্ত স্বপ্ন
বগুড়ার পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল শহীদ জুনায়েদ ইসলাম রাতুল। রাজনীতি বোঝার বয়স হওয়ার আগেই আন্দোলনে আহত এক বড় ভাইকে হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে প্রতিবাদের মিছিলে যোগ দিয়েছিল। সোমবার (৫ আগস্ট) ২০২৪ আনন্দমিছিলের ভিড়ে থাকা এই কিশোর পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ৪৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২০২৪ রাতুল শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে।
সবজি বিক্রেতা বাবা জিয়াউর রহমানের একমাত্র ছেলেটি এখন শুধুই স্মৃতি। রাতুলের মা আজও ছেলের পড়ার টেবিল পরিষ্কার করেন এবং ডায়েরির পাতা উল্টে দেখেন। চৌদ্দ বছরের এই কিশোরের পড়ার টেবিল ও স্কুল ডায়েরির হোমওয়ার্ক আজও অসমাপ্ত রয়ে গেছে।
অপেক্ষা ও শোকের প্রতিচ্ছবি
শহরের অন্য একটি পরিবারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দর্জি শিমুল শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চলতে দেখে প্রতিবাদের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে নিথর দেহে ফিরেছিলেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার আজ দিশেহারা। শহীদ শিমুলের ছোট্ট মেয়েটি আজও বাবার ফেরার পথ চেয়ে থাকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বগুড়ায় মোট ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই আন্দোলনে আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ এবং আন্দোলনের সময় শত শত আন্দোলনকারী আটক হয়েছিলেন। শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, রাষ্ট্র যেন কেবল তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ না করে, বরং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্স বগুড়ার সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আহমেদ বাংলা এডিশনকে বলেন, শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা হলো রাষ্ট্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
বগুড়া জজ কোর্টের আইনজীবী শাহাদৎ হোসেন বাংলা এডিশনকে জানান, দ্রুত তদন্ত শেষ করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মাধ্যমেই শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে পারে।
শহীদদের স্বজনেরা জানেন যে তাদের প্রিয় মানুষ আর ফিরবে না। তবুও তারা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের বিশ্বাস, যেদিন বিচার হবে, সেদিনই শহীদদের আত্মত্যাগ সত্যিকার অর্থে সম্মান পাবে।
আরও পড়ুন:








