হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ বিদ্যালয় ভবনের ছাদের একটি অংশ খসে পড়ে। বিকট শব্দে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। সৌভাগ্যক্রমে ছাদ ধসে পড়ার সময় সেখানে কোনো শিক্ষার্থী অবস্থান না করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা ও ছাদের অংশ খসে পড়েছে। তবে বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান ও পাঠগ্রহণ চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, ঘটনাটি গত রবিবার ঘটেছে। এরপর থেকে ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, হবিগঞ্জ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশে প্রায় ২৫ বছরেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০টি বিদ্যালয়কে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদরে ৩টি, লাখাইয়ে ৩টি, বাহুবলে ৩টি, মাধবপুরে ৩টি, চুনারুঘাটে ৩টি, নবীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ১টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি এবং শায়েস্তাগঞ্জে ১টি বিদ্যালয় রয়েছে।
এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ফলে প্রতিদিনই হাজারো শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো প্রাণহানির পরই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? তারা অবিলম্বে বিদ্যালয় ভবনের প্রকৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার অথবা প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উপজেলা শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোহারা বেগমের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আপাতত বিদ্যালয়ের সামনে খোলা জায়গায় টিন দিয়ে একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন ভবন নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।
আরও পড়ুন:






.jpg)

