সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রামের শতবর্ষী গামছা শিল্প বর্তমানে টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে। কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং ক্রেতা সংকটের কারণে অনেক তাঁতঘরেই নেমে এসেছে নীরবতা। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন এ শিল্পের কারিগররা।
একসময় সকাল হলেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পাঁচলিয়া গ্রাম মুখর হয়ে উঠত তাঁতের খটখট শব্দে। সেই শব্দ ছিল জীবিকা, ঐতিহ্য আর এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের বয়ে চলা একটি শিল্পের গল্প। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই পরিচিত শব্দ এখন অনেকটাই নীরব। শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখা গামছা শিল্প বর্তমানে টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে।
পাঁচলিয়া শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের অন্যতম জনপদ। এখানকার তাঁতিদের হাতে বোনা গামছা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং ক্রেতা সংকটের কারণে অনেক তাঁতঘরেই নেমে এসেছে নীরবতা।
কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে লোকসান
গামছা ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হাকিম বাংলা এডিশনকে জানান, সুতা, রংসহ প্রায় সব কাঁচামালের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় গামছার দাম বাড়েনি। ফলে প্রতিটি গামছা বিক্রির পরও লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
তাঁত মালিকদের অনেকেই বাংলা এডিশনকে জানান, মূলধনের অভাবে মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে কাজ করতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে কম দামে সেই গামছাই তাদের কাছে বিক্রি করতে হয়। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেও সংসারের খরচ যোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই পেশা বদলে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।
তাঁত মালিক আরিফুল ইসলাম এবং এরশাদুল ইসলাম বাংলা এডিশনকে জানান, একসময় পাঁচলিয়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল তাঁত। পরিবারের সবাই মিলে গামছা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আজ সেই তাঁতের অনেকগুলোই অচল পড়ে আছে। একে একে হারিয়ে যাচ্ছে একটি গ্রামের পরিচয়, একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি আর বহু পরিবারের প্রজন্মের পেশা।
সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় তাঁতিরা
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তারা বাংলা এডিশনকে জানান, তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সবাইকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নতুন বরাদ্দ পেলে আরও বেশি সংখ্যক তাঁতিকে সহযোগিতা করা হবে।
একটি গামছা শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি কাপড় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি আর হাজারো তাঁতি পরিবারের জীবন-জীবিকা। সময়মতো কার্যকর সহায়তা, ন্যায্যমূল্য ও আধুনিক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো আবারও পাঁচলিয়ার আকাশে ভেসে উঠবে তাঁতের সেই পরিচিত খটখট শব্দ, বেঁচে থাকবে বাংলার শতবর্ষী এই ঐতিহ্য।
আরও পড়ুন:
.jpg)







