ফেনীতে নুর নবী হোসেন নামে এক দিনমজুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত নুর নবী হোসেন ভোলার বাসিন্দা। নদীভাঙনের পর পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীতে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করছিলেন। স্ত্রী বিবি ফাতেমাকে নিয়ে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটাতেন তারা।
গত ২৬ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নুর নবীর স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন অভিযুক্ত শাহ পরান। এ নিয়ে নুর নবীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে নুর নবী অভিযুক্তের নাকে ঘুষি মারলে শাহ পরান সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তার পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় নুর নবীকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২৭ জুলাই ধারা ৩০২ অনুযায়ী রুজু করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ফেনী মডেল থানার একটি দল সোনাগাজী সার্কেল ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায়। পরে ২৭ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেখানো স্থান মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচের একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার শাহ পরানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৭টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:








