আশুলিয়ায় গভীর রাতে প্রায় ফাঁকা একটি চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চালক, হেলপার ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বাসের অন্য সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা যুবককে মারধর করে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং দুই অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরবর্তীতে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় পলাতক বাসচালককেও।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুসফিকুর রহমান জনি, সুমন প্রামাণিক এবং বাসচালক ইমরান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী নারী তার পরিচিত মো. রুবেল-কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আশুলিয়ার নবীনগরের উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহন-এর একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৭৪) যাত্রা করেন।
রাত প্রায় আড়াইটার দিকে বাসটি নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন স্থানে একে একে অন্য সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর বাসে কেবল ভুক্তভোগী নারী ও তার সঙ্গী রুবেলকে রেখে চালক ইমরান, হেলপার মুসফিকুর রহমান জনি এবং তাদের পূর্বপরিচিত সহযোগী সুমন প্রামাণিক পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে মারধর করে। পরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলন্ত বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বাসচালক ইমরান বাস থেকে নেমে গেলে হেলপার জনি, সুমনের সহায়তায় চলন্ত বাসের ভেতর নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। সেই ফোনকলের ভিত্তিতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাসটি আটক করে, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন:








