সোমবার

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

টিস্যু কালচারে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি

আবুল কালাম, বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৯

আপডেট: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩০

শেয়ার

টিস্যু কালচারে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি
ছবি বাংলা এডিশন

আধুনিক টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত ও অধিক ফলনশীল চারা উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একটি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ কোষ থেকেই তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার রোগমুক্ত, একই বৈশিষ্ট্যের এবং অধিক ফলনশীল চারা। কমছে রোগবালাই, কমছে কীটনাশকের ব্যবহার, বাড়ছে উৎপাদনের সম্ভাবনা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি।

মাটিতে নয়, জীবাণুমুক্ত ল্যাবরেটরিতে কাঁচের বোতল ও টেস্টটিউবের ভেতর বেড়ে উঠছে নতুন প্রাণ। একটি সুস্থ মাতৃগাছের অতি ক্ষুদ্র টিস্যু সংগ্রহ করে বিশেষ পুষ্টি মাধ্যমে অল্প সময়েই উৎপাদন করা হচ্ছে হাজার হাজার উন্নতমানের চারা। বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারের আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বগুড়া, মাদারীপুর ও ময়মনসিংহে সরকারি তিনটি টিস্যু কালচার ল্যাবে রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। গত এক বছরে এসব ল্যাবে উৎপাদিত হয়েছে দুই লাখ ১২ হাজারের বেশি চারা। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার চারা কৃষক, নার্সারি মালিক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

রোগমুক্ত চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি

বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারের টিস্যু কালচারিস্ট মামুন আসাদ বাংলা এডিশনকে জানান, বর্তমানে এ প্রযুক্তিতে কলা, আলু, আনারস, স্ট্রবেরি, অর্কিডসহ বিভিন্ন ফল, ফুল ও ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এর পরিধি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ছে।

কৃষকদের মতে, টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারায় রোগের ঝুঁকি অনেক কম। একই মানের বিপুলসংখ্যক চারা অল্প সময়েই পাওয়া যায়। ফলে ফলনের পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনই উৎপাদনের গুণগত মানও উন্নত হচ্ছে। এই সাফল্য দেখে নতুন অনেক কৃষকও আধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হর্টিকালচার সেন্টারগুলোও ধীরে ধীরে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বগুড়ার বনানী হর্টিকালচার সেন্টারে ল্যাবভিত্তিক চারা উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি শুধু উন্নত চারা উৎপাদনেই নয়, বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রযুক্তি বিস্তারে জোর বিশেষজ্ঞদের

খামারবাড়ি কৃষি মন্ত্রণালয়ের টিস্যু কালচার প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক জোবায়ের মাশরুর বাংলা এডিশনকে বলেন, কৃষির ভবিষ্যৎ এখন শুধু মাঠে নয়, গবেষণাগারেও গড়ে উঠছে। একটি ক্ষুদ্র কোষ থেকে হাজারো রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারা তৈরির এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিকে আরও আধুনিক ও টেকসই করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিস্যু কালচার ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে এ প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।



banner close
banner close