রবিবার

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভবনে হামলা ও বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০৯

শেয়ার

২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভবনে হামলা ও বিস্ফোরণ
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

হামলার স্থান ও সময়

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিংক রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে মাস্ক পরিহিত ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল টেম্পোতে করে জসিম উদ্দিনের ভবনের সামনে এসে নামে। ভবনে প্রবেশ করেই সন্ত্রাসীরা কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর শুরু করে। তারা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার চাল ও চিনির একজন পাইকারি ব্যবসায়ী। তিনি জানান, গত এক মাস ধরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি তখনই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ রবিবারের এই হামলার ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কারা তাকে এ হুমকি দিচ্ছিল, তাদের নাম তিনি শনাক্ত করতে পারেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শুধু জসিম উদ্দিনই নন, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নতুন নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনের মালিকের কাছে ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছে সন্ত্রাসী চক্রটি। স্বাধীনতার পর এই এলাকায় এমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা নজিরবিহীন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এর আগেও হামলার ঘটনা

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেও একইভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী দল হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের নাম উঠে আসে এবং পরবর্তী সময়ে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।



banner close
banner close