ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। তাদের দাবি, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে-এমন আশঙ্কায় তারা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।
শনিবার অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সকল ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে অনেক পরীক্ষার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরীক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল মাদানী বলেন, 'অনেকে ভাইভা না দিয়ে চলে যাচ্ছে। কাউকে খুবই সহজ আবার কাউকে খুবই জটিল প্রশ্ন ধরা হচ্ছে। অনেকে এখানে শুনতে পাচ্ছে বিভিন্ন জনের সুপারিশ দেয়া হয়েছে, সেটি শুনেই তারা চলে গিয়েছে।'
আরেক শিক্ষার্থী রহিম ইসলাম বলেন, 'আমি অনার্স ১ম বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমাকে যত প্রশ্ন করা হয়েছে, সবগুলোরই উত্তর দিয়েছি। আমাকে মোট ১৬ থেকে ১৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি যতগুলোর উত্তর দিচ্ছি, আমাকে থামানোর জন্য আরও প্রশ্ন করেছে। ভাইভা ভালো হয়েছে কিন্তু আমার পক্ষে সুপারিস বা ধরাধরি করার মতো কেউ নাই।'
অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, 'আমাদের সামনে রাজনৈতিক দলের নেতারা তালিকা নিয়ে যাচ্ছে এবং তালিকা জমা দিচ্ছে। তাহলে আমাদের এই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল্য কোথায় থাকল? এই নাটক দেখার জন্য পরিক্ষার্থীরা এতো কষ্ট করছে? প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি-যে কেউ অনিয়ম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং ফলাফল যেন সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়।'
পরীক্ষার্থী মাহির মিলন বলেন, 'এইটা একধরনের নাটক। ভাইভার নামে এই নাটক সাজানোর প্রয়োজন ছিল না। তারা যেহেতু সিলেকশনই করবে, তাহলে এতগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে প্রতিটি মানুষ বুঝে গেছে, এগুলো সব দলীয়ভাবে সিলেকশন হবে। একজন মহিলা নেত্রী পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমাকে বলল, ‘আমাদের তো সব সেট করা আছে। এটি শুধু ফর্মালিটি।'
তবে প্রার্থী ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগের রাতে যাচাই-বাছাই শেষে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ ফরমগুলো বাতিল করা হলেও পরীক্ষা নেয়ার পূর্বমুহূর্তে ডোমার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মী আরিফুল ইসলামের দায়িত্বে থাকা টেবিলে সেই বাতিল হওয়া ফরমগুলোর কিছু পুনরায় এনে পূরণ করে জমা নেয়া হয়েছে বলে একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা নিয়মের বাইরে কিছু করিনি।'
মন্তব্যের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকিম উদ্দীন জানালেন, পরিক্ষার পূর্বে ফরম পূরন বা সংশোধন করার নিয়ম নেই। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন তিনি।
আরও পড়ুন:








