হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের অব্যয়িত ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার কালিয়াদারা-তেঘরিয়া ও সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম।
এর আগে গত ২৪ জুন "লাখাইয়ে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি" শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি, শ্রমিক উপস্থিতি, কর্মদিবসের গরমিল, কাজের অগ্রগতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে মুড়িয়াউক ইউনিয়নের তেঘরিয়া খাল ও সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালিয়াদারা-তেঘরিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৩ হাজার ৬৯০ টাকা এবং সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। দুটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দের বিপরীতে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, তেঘরিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং সাতাউক খালে প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। কালিয়াদারা-তেঘরিয়া প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২৪ এপ্রিল এবং সাতাউক খালের কাজ শুরু হয় ১০ মে। উভয় প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২৮ জুন ২০২৬।
প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত তদারকি, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
আরও পড়ুন:








