শনিবার

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩

অস্বাভাবিক বরাদ্দে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, টাকা ফেরত শুরু

শেখ বেলাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৭

শেয়ার

অস্বাভাবিক বরাদ্দে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, টাকা ফেরত শুরু
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং একই প্রকল্পে একাধিকবার অস্বাভাবিক বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য (হবিগঞ্জ-১) ড. রেজা কিবরিয়ার অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ বণ্টন ও বাস্তবায়ন নিয়ে তাঁর চাচা শাহ আজাদ আলী সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, আউশকান্দি ইউনিয়নের উলুকান্দি সড়কে সাবেক মেম্বার বরকত উল্লাহর বাড়ির পাশে ৩ ফুট প্রস্থ ও ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পটি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হলেও স্থানীয় কাউকে প্রকল্প কমিটিতে না রেখে বেতাপুর গ্রামের শাহ আব্দুর রাজ্জাককে সভাপতি করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিজিল আহমদ সেজলু এবং আউশকান্দি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব আহমদ অভিযোগ করেন, ওই কাজে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়নি। তাঁদের দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দীঘলবাক ইউনিয়নে। মসিবপুর ফজলু মিয়ার বাড়ি থেকে নুরগাঁও জামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের নামে জনৈক এমদাদুল হককে সভাপতি করে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে কোনো সড়কই নেই। শেরখাই নদীর একটি বাঁধকে সড়ক দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

প্রকল্প সভাপতি এমদাদুল হক এ বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ছালিক মিয়া এবং ইউপি সদস্য খালেদ হাসান দোলন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা জামে মসজিদ সড়ক সংস্কারের নামে একই প্রকল্পে তিন দফায় মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় শাহ আজাদ আলী সুমনের ঘনিষ্ঠজন লায়েক চৌধুরীকে। যদিও শাহ আজাদ আলী সুমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো প্রকল্পের সভাপতি নই। কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর কয়েকটি প্রকল্পের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন দেবপাড়ার জালালসাপ গ্রামে হযরত শাহ শাবুদ (র.) মাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও সেখানে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ৩০০ ফুট রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও পুরোনো ইট ব্যবহার করে মাত্র ২০০ ফুট কাজ করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী হাবিবুর রহমান জানান, অনিয়মের অভিযোগ ওঠা কালভার্ট প্রকল্পের অর্ধেক অর্থ, অর্থাৎ ১ লাখ টাকা গত ১৯ জুলাই সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। দীঘলবাক ইউনিয়নের বিতর্কিত প্রকল্পের অর্থও ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন বলেন, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত এসেছে। বাকি প্রকল্পগুলোও তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close