ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের দাবিদার চেয়ারম্যান পুষ্টিবিদ মো. আলীম উদ্দিন লস্কর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষা কার্যক্রম অবিলম্বে চালুর দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন, আর্থিক অনিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে ধরেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বরে (মুক্তমঞ্চ) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দি ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আলীম উদ্দিন লস্কর দাবি করেন, দি ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ২০১১ সালে গঠিত হয়। এই ট্রাস্টের লক্ষ্য ছিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন ডিপ্লোমা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন (চেয়ারম্যান), আলী ইকবাল জোয়ার্দার (ভাইস চেয়ারম্যান), অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব (সেক্রেটারি), আলীম উদ্দিন লস্কর (ট্রেজারার)সহ কয়েকজন সদস্য। এই ট্রাস্টের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলেও পরে সহকারী রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্ত এবং রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটনের পরামর্শে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের স্বাক্ষর স্ক্যান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব চেয়ারম্যান সোলায়মান হক জোয়ার্দারের মৃত্যুর পর স্থগিত হয়ে যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে রেখে তা অবৈধভাবে ব্যয় ও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুনকে চেয়ারম্যান রেখেই তাঁর ছোট ভাই রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটনের নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ট্রাস্ট নামে নতুন একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়। তাঁর দাবি, ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যত দখল করা হয়।
আলীম উদ্দিন লস্কর বলেন, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলায়মান হক জোয়ার্দারের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট পুনর্গঠন করা হয়। এতে তাঁকে চেয়ারম্যান এবং আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি করা হয়। অন্যদিকে ২০১৫ সালে গঠিত ট্রাস্টে চেয়ারম্যান হন আক্তারী জোয়ার্দার এবং সেক্রেটারি হন রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটন।
তিনি দাবি করেন, ২১ জুলাই ২০২৬ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের কক্ষ পুনরুদ্ধার, তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার সংরক্ষণের ঘোষণা, নতুন উপাচার্য নিয়োগের উদ্যোগ, বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ, জনবল সংকট দূরীকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এসব উদ্যোগের পরও গত ২৩ জুলাই ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্ত রাজনৈতিক স্লোগানধারী বহিরাগতদের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
এ সময় রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নন বলেও দাবি করেন আলীম উদ্দিন লস্কর। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সালের নতুন ট্রাস্ট গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় দখল প্রক্রিয়ার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন টোটন এবং তাঁর সহযোগী নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্ত। তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু, প্রশাসনিক জটিলতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ট্রাস্টি বোর্ডের বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা শহর জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:








