বৃহস্পতিবার

২৩ জুলাই, ২০২৬ ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় বাস উল্টে ২৩ যাত্রী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৮

শেয়ার

চুয়াডাঙ্গায় বাস উল্টে ২৩ যাত্রী আহত
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ২৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিল। তবে বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সাতজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে বুলবুলী নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহীতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মো. রুবেল , চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা.খাদিজা, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক, মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা.পঞ্চমী বেগম, মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম, মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর ও একই গ্রামের শাহিন, চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী, চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা, মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম, গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান, চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী, শরীয়াতপুর জেলার মোছা. জাহানারা। এছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা.এহসানুল হক তন্ময় বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ১৬ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রেফার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



banner close
banner close