চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। বিকেলে নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত। এ সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়ুয়া একদল ছাত্র আসল তার কার্যালয়ে। তাদের হাতে এক টুকরো কাগজ। তাতে একটি দরখাস্ত লেখা।
ইউএনও দেখলেন, পড়লেন তারপর মুগ্ধ হলেন।
ছাত্রদের দাবি একটি ফুটবল। সাথে সাথে একটি ফুটবলের ব্যবস্থা করে তাদের হাতে তুলে দিলেন।
ফুটবল পেয়ে হাসি ফুটে উঠল ছাত্রদের মুখে। তাদের উচ্ছ্বাস দেখে অনাবিল আনন্দে ভরে উঠল ইউএনও'ককক মন। পুরো দিনটায় আনন্দময় হয়ে গেল ইউএনও তিথি মিত্রের। এরপর তিনি তাঁর আবেগ এভাবে প্রকাশ করলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Uno Chuadanga sodor- অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন তিথি মিত্র।
"আজ বিকালে অফিসে দাপ্তরিক কাজ করছি। এমন সময় অফিসের একজন স্টাফ জানালো আমার সাথে কয়েকজন দেখা করতে এসেছে। তাদেরকে ভিতরে পাঠাতে বললাম। তাদেরকে দেখে বেশ কৌতূহল জাগলো। আসার হেতু জানতে চাইলে তারা বললো তাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তাদের দাবী তাদেরকে একটি বল দিতে হবে। বল চাইবার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই তারা একেবারে লিখিত আবেদন দাখিল করলো। আবেদনের সারমর্ম হলো তাদের খেলার জন্য কোনো মানসম্মত বল নেই। তাদের যুক্তি খেলাধুলা পড়াশোনার একটি বিশেষ পাঠ। খেলাধুলা করলে শরীর সুস্থ ও সুন্দর থাকে। এরূপ অকাট্য যুক্তির পর তাদেরকে একটি বল দেওয়া আমার অবশ্য দায়িত্ব হয়ে পড়লো। অবশেষে তাদেরকে একটি বল দিতে পেরে অনাবিল আনন্দে মন ভরে উঠলো। আর বলটা পেয়ে তাদের যে উচ্ছ্বাস তা আমার পুরো দিনটাকে আনন্দময় করে তুললো। শৈশব হোক আনন্দময়।"
ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, ইউএনও হিসেবে প্রতিদিন কত মানুষের সরকারি সহায়তা করে থাকি। তবে আজকে এসব সোনা-মনিদের একটি ফুটবল দেয়ার পর তাদের উচ্ছ্বাস আর দরখাস্তে আবেদনের ভাষা আমার হৃদয় নাড়া দিয়েছে। এসব কোমলমতি কিশোররা আমাদের আগামীদিনের ভবিষ্যত। তাদের খেলাধূলামূখি করতে পারলে একটি সুস্থ-সুন্দর জাতি পাবো।
আরও পড়ুন:








