বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সরকারি খাল ভরাটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

রবিউল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৯

শেয়ার

সরকারি খাল ভরাটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
ছবি বাংলা এডিশন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নে সরকারি খাল ভরাট করে এবং সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়ক জনস্বার্থের চেয়ে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত যাতায়াতের সুবিধাই বেশি নিশ্চিত করছে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

ঘটনাস্থল রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকা। খালের ভেতরে বাঁশ ও গজারি গাছের খুঁটি পুঁতে বালু-মাটি ফেলে চলছে ভরাটের কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে সরকারি খালের অংশ দখল করে এই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কারের দাবি উপেক্ষিত থাকলেও চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের এই রাস্তার জন্য দ্রুত বরাদ্দ মিলেছে। তাদের অভিযোগ, এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও আশঙ্কা

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, খালের অংশ ভরাট হওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রকল্পটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া দাবি করেন, প্রকল্পটি কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়েই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।

প্রকৌশলীর বক্তব্য

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতেই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে, একই এলাকায় বিকল্প রাস্তা থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রশাসনের অবস্থান

এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করবেন বলে জানান। সরকারি খাল ভরাট করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন ইউএনও। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন এই রাস্তা জনস্বার্থে, নাকি ব্যক্তিস্বার্থে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে প্রশাসনিক তদন্তের পর। তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাল ও জনসম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।



banner close
banner close