বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন; ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের পান্ডারখাল বাঁধ

সুমন আহমেদ সিলেট

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৬

আপডেট: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৬

শেয়ার

অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন; ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের পান্ডারখাল বাঁধ
ছবি বাংলা এডিশন

অবৈধ দখল আর বেপরোয়া বালু পাথরের ব্যবসায় ধীরে ধীরে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধ। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ বালু, পাথর ও ইটের ডিপো। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বাঁধটি।

১৯৭৪ সালে, আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরাঞ্চলের কৃষিজমি রক্ষায় নির্মাণ করা হয় পান্ডারখাল বাঁধ। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু বন্যা প্রতিরোধের কাজই করেনি, বরং ছাতক সুনামগঞ্জ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন এই বাঁধ ব্যবহার করে চলাচল করছে।

বাঁধের দুই পাশে দখল ও গাছ কর্তন

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালু, পাথর ও ইটের ডিপো। শুধু তাই নয়, বাঁধসংলগ্ন গাছ কেটে ফেলা এবং গাছের গোড়ায় বালু পাথর স্তূপ করে রাখার কারণেও অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বিশ্রামাগার বা বসার ছাউনিও এখন আর নেই।

ভারী যান চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য ভারী ট্রলি বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করায়, মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষিজমি, সড়ক যোগাযোগ এবং আশপাশের জনপদ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবি তাদের।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলে, হাওর রক্ষার জন্য নির্মিত এই বাঁধ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। ব্যবসা করতে হলে এমনভাবে করতে হবে, যেন বাঁধ ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়।

দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের সদস্য জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ জানিয়েছেন, অবৈধ দখল ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি বাঁধের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়ে কাজ করার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য পান্ডারখাল বাঁধ শুধু একটি বাঁধ নয়, এটি কৃষি, যোগাযোগ এবং জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ দখল, বালু পাথরের ডিপো এবং নিয়ন্ত্রণহীন ভারী যান চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও টিকে থাকে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।



banner close
banner close