ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামীর মুখে তালাকের কথা শুনে অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে ফারজানা আক্তার নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নাওঘাট মহন মিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফারজানা আক্তার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নাওঘাট পূর্বপাড়ার মিন্টু মিয়ার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে সাচ্চু মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহতের স্বামী সাচ্চু মিয়া বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ফারজানার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর মুখ থেকে তালাকের কথা শুনে তিনি অভিমান করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের টিনের রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই ফারজানার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে তার স্বামী সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য চলছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফোনে কথা বলার সময় তার মেয়েকে ‘দুই তালাক’ দেয়ার কথা বলা হয়। এরপর অভিমান করে ফারজানা আত্মহত্যা করেন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের খারাপ আচরণ এবং স্বামীর সন্দেহের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি আশুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








