সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মারিয়াম বেগম বলে দাবি করেছেন এবং ভিডিও ফাঁসের জন্য তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মারিয়াম বেগম এবং মারিয়াম বেগমের মামা মো. ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িযোগে মগবাজারস্থ মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়ী অফিসে যান। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
তিনি জানান, জোহরের নামাজের আগে গাড়িচালক গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। বেশ কিছু সময় পর সে দ্রুত রুমে ফিরে এসে তাদের সতর্ক থাকতে বলে আবার চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে পুনরায় ফিরে এসে দরজা খুলতে বললে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম দরজা খুলে দেন। সাথে সাথে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত লোক রুমে ঢুকে তাদের উপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে কৈফিয়ত দাবি করে। তারা তাদের ব্যাগ ও পকেট তল্লাশি করে নিচে ৩-৪টি ঠিকাদারের দোকানে নিয়ে যায় এবং ১ লাখ টাকা দাবি করে। তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পর তারা তাদের সম্মানজনকভাবে সেখান থেকে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
টাকা দাবি ও হুমকির অভিযোগ
বিবৃতি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তাদের গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। এরপর তারা বাসায় চলে আসেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ তাকে ফোন করে জানায় যে, মগবাজারের চাঁদাবাজদের হাত থেকে গাড়ি ছাড়াতে হলে তার কাছে ৫ লাখ এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই মো. মাছুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। তবে প্রকৃত ঘটনা হলো, এই সমস্ত চক্রান্তের মূল নায়ক ছিল তাদের গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ।
চক্রান্তের কারণ ও ভিডিও ফাঁস
গাজী নজরুল ইসলাম বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর দীর্ঘদিন ধরে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলছিল। অতীতে তাদের সম্পর্ক বেশ খারাপ হলেও বর্তমানে বাহ্যিক উন্নতি হলেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ শেষ হয়নি। গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ চক্রান্ত করে তাকে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার শ্বশুরের গাড়ি জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে জনাব মাছুম বিল্লাহ বুদ্ধিমত্তার সাথে পরদিন রাত প্রায় ১২টার দিকে এক আত্মীয়ের, থানার চাকরিরত এসআই আমিনুর, সহায়তায় বিমানবন্দর সড়ক এলাকা থেকে গাড়ি ও গাড়িচালককে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে মারধর করা হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেয়, সে দেখে নেবে এবং তার স্ত্রীর জীবন তার হাতের মুঠোয় রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ হিংসা ও স্বার্থের বশবর্তী হয়ে পূর্বে ওই অফিস কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত তাদের স্বামী-স্ত্রীর গোপন ভিডিও ফুটেজ মিডিয়ায় প্রচার করে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং তার বা তাদের চরিত্র হননের শামিল।
নিন্দা ও শাস্তির দাবি
বিবৃতির শেষে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তারা গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহর এহেন চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং চরিত্র হননের মতো অপকর্মের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:








