মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নাফ নদী পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, আটক ৩ নিরাপত্তা সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১০:১০

শেয়ার

নাফ নদী পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, আটক ৩ নিরাপত্তা সদস্য
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মায়ানমারের জান্তা সরকারের এক বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য ও দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ইয়াঙ্গুনের শ্বে পাউত কান্ট কোয়ার্টার এলাকার হেইন ডে হটেট (৩৮), মংডু শহরের মেতাগে এলাকার হেইন জাও (৩৩) এবং মান্দালয়ের মাদিয়ার কোয়ার্টার এলাকার কিয়াও নাইং (৩৫)।

বিজিবি জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২-এর আওতাধীন টেকনাফ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টহলরত অবস্থায় তারা তথ্য পায়, বিআরএম-৭ থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া বরফকল সংলগ্ন নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারের জান্তা সরকার ও বিজিপির কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।

পরে দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২-এর বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা সদস্যদের সহায়তায় নাফ নদী থেকে তিনজনকে আটক করেন। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বিজিপির সদস্য এবং অপর দুজন মায়ানমার পুলিশের সদস্য।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২-এর নায়েক মো. নায়েমুল হাসান বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের একজন ২০১২ সালে মায়ানমারের পুলিশ বাহিনীতে সিপাহী হিসেবে যোগ দেন এবং মান্দালাইয়ে ছয় মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত মান্দালাইয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে মংডুতে বদলি করা হয়, যেখানে তার অধীনে সাতজন সদস্য কর্মরত ছিলেন।

সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই মংডুতে সংঘর্ষের সময় তিনি আরাকান আর্মির হাতে আটক হন। পরে তাকে তুমব্রু সীমান্তসংলগ্ন একটি কারাগারে এবং পরবর্তীতে ১ বিজিপির একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি পালানোর পরিকল্পনা করেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তিনি মংলা এলাকার এক গরু ব্যবসায়ী বন্ধুর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সংগ্রহ করেন। এরপর ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ল্যান্স কর্পোরাল থিং জে এবং সিপাহী কাউ নাইংকে সঙ্গে নিয়ে আরাকান আর্মির কারাগার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। তারা হেঁটে এসে নাফ নদী সাঁতরে অতিক্রম করে ২০ জুলাই ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া বরফকল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

বিজিবি জানায়, আটক তিনজন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তাদের পরিচয় যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মায়ানমারের তিনজন বিজিপি ও পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবি থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হবে।



banner close
banner close