বান্দরবানের জুলাই মাসের ১ম সপ্তাহের অতিবৃষ্টি ও বন্যায় প্লাবিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিট অফিসের অধীনে বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ৫১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিট অফিসের তথ্যমতে, ৫থেকে ১০জুলাই এ ৫ দিনের ব্যবধানে বান্দরবান জেলায় ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে এক টানা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ৫১টি সড়কের কার্পেটিং, আরসিসি, কালভার্ট, রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেন ও ভূমিধসে প্রায় ৩০৮.৫০ কি:মি: সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বান্দরবান সদরসহ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, কয়েকটি সড়ক ধসে পড়েছে আবার কয়েকটি সড়কের পাশে রিটেইনিং ওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়াও সড়কের উপর বিপদজনক ভাবে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে করে এলাকার জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। সময়মত পরিবহনের ব্যবস্থা করতে না পারায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিন কৃষি পন্যেরও পঁচন ধরছে। এতে করে সবদিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।
এ বিষয়ে বান্দরবান কুহালং এর বাসিন্দা মংপ্রু মারমা বলেন, আমাদের এখানে বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ায় আমাদের কৃষিপন্য সময়মত বাজারজাত করতে পারছিনা। ফলে বেশিরভাগ পন্যই নস্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমরা সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
আরেক কৃষক হ্লাচিংনু মারমা বলেন, আমরা এমনিতেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে লোন নিয়ে সবজি চাষ করেছি। এবারের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ সবজিবাগানই নস্ট হয়ে গেছে। এরমধ্যে যেগুলো আছে তাও সড়কের বেহাল দশা হওয়াতে বাজারজাত করতে পারছিনা। আমরা চাই দ্রুত রাস্তা মেরামত করাহোক। নয়তো আমরা আমাদের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে নি:স্ব হয়ে যাব।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো: ইয়াছির আরাফাত বলেন, ৫থেকে ১০জুলাই এ ৫ দিনের ব্যবধানে অতিভারী বৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার অভ্যন্তরীণ ৫১টি সড়কের কার্পেটিং, আরসিসি, কালভার্ট, রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেন ও ভূমিধসে প্রায় ৩০৮.৫০ কি:মি: সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক মেরামত করতে প্রায় ২০কোটি ৮৫লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুন:







.jpg)
