সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর পয়েন্ট থেকে বিয়ানীবাজার পর্যন্ত এবং দোহালিয়া (মঙ্গলপুর) ভূমি অফিস থেকে কিত্তে রাজনপুর হয়ে ধর্পপুর পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তখন কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। দোহালিয়ার প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ-এর শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয় ও কলেজে পৌঁছাতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থী সালমান আহমদ বলেন, প্রায় ৭-৮ বছর থেকে ভাঙাচুরা রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে, বিশেষ করে বর্সার মৌসুম আসলে স্কুল কলেজে যেতে পারিনা, অল্প বৃষ্টিতে হাঁটু সমান পানি জমে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি করছি।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ মানুষও প্রতিনিয়ত এই সড়ক ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে কিংবা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সিএনজি চালক আব্দুল গফুর তিনি জানান, ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে যা রুজিরোজগার করি সব টাকা দিয়ে গাড়ি মেরামত করতে হয়। কারন রাস্তা এতটা খারাপ প্রতিদিনই গাড়িতে কাজ করাতে হয়। সরকার আসে যায় কিন্তু এই রাস্তার পরিবর্তন হয়না।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রতাপপুর–বিয়ানীবাজার এবং দোহালিয়া মঙ্গলপুর ভূমি অফিস থেকে কিত্তে রাজনপুর হয়ে ধর্পপুর পর্যন্ত সড়কের জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন দুটি রাস্তার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে আসা করছি দ্রুত রাস্তা গুলোর কাজ আসবে।
আরও পড়ুন:



.jpg)




