মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

মান্দা উপজেলার প্রশাসনের নীরবতায় চলছে সড়কের পাশের গাছ কাটার মহোৎসব

শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯

শেয়ার

মান্দা উপজেলার প্রশাসনের নীরবতায় চলছে সড়কের পাশের গাছ কাটার মহোৎসব
ছবি: বাংলা এডিশন

দিনের আলোয় একের পর এক কাটা পড়ছে সড়কের পাশের সারিবদ্ধ গাছ। গাছগুলো কার, কোন অনুমতিতে কাটা হচ্ছে এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তরের কাছেই। সরকারি সম্পদ নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ এই ধোঁয়াশার মধ্যেই চলতে থাকা গাছ কাটার ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার তালপাতিলা-চকউলী এলজিইডি সড়ক এলাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ। প্রশাসনের নজরদারি ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালপাতিলা-চকউলী এলজিইডি সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকি প্রায় ৪০টি গাছ কাটার প্রস্তুতিও চলছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দিনের আলোতেই সড়কের ধারের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। অথচ কার অনুমতিতে গাছ কাটা হচ্ছে কিংবা গাছগুলোর প্রকৃত মালিক কে এ বিষয়ে কোনো দপ্তরই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

কাঠ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি তালপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন মরুর কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এসব গাছ কিনেছেন। মোট কতটি গাছ কাটা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমরান হোসেন মরুর জমির সামনে থাকা প্রায় ৪০টি গাছ কাটা হবে। তিনি আরো জানান, বিক্রেতা তাকে জানিয়েছেন, গাছগুলো তার নিজস্ব জমিতে রোপণ করা হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. এমরান হোসেন মরুর বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুল কাদের জানান, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো যদি কোনো সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে রোপণ করা না হয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে এলজিইডির আইনগতভাবে করণীয় সীমিত। গাছগুলোর মালিকানা বা তদারকির বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল জানান, গাছ বা বাগানটি বন বিভাগের লাগানো নয় এবং এটি বন বিভাগের আওতাভুক্তও নয়। ফলে কে বা কারা গাছ রোপণ করেছে কিংবা এখন কাটছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে অনেক সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকেরা নিজ উদ্যোগে সড়কের পাশে গাছ লাগিয়ে থাকেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই ছাড়া এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) কে ব্যক্তিগত জমি দাবি করে অভিযুক্তরা কিছু কাগজপত্র জমা দিয়েছে উনি সেটা দেখবে, দেখে আমাকে জানাবে তারপর দেখা যাবে।

এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে গাছগুলোর প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করে কোনো অনিয়ম বা সরকারি সম্পদ দখল ও অবৈধভাবে গাছ কাটার প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার।



banner close
banner close