মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৬

শেয়ার

ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন একাধিক কৃষক। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, হয়রানি এবং ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কৃষকদের দাবি, খাদ্য গুদামকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে প্রকৃত কৃষকেরা সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলায় সরকারি হিসেবে ১ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান এবং ২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারও চালানো হয়।

অভিযোগে কৃষকেরা বলেন, সরকারি ঘোষণা শুনে ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলেও তাঁদের কৃষক কার্ড জমা রেখে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে না। বরং অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্য উৎস থেকে ধান সংগ্রহ করে গুদাম ভর্তি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকেরা দিনের পর দিন ধান নিয়ে ঘুরেও তা বিক্রি করতে পারছেন না।

তাঁদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বস্তাসহ ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম ধান গ্রহণের কথা থাকলেও বাস্তবে ৪২ কেজি ২০০ গ্রাম করে ধান নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ৩ মণ ধান উৎকোচ হিসেবে দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের আরও দাবি, সরকারি রাজস্ব বাবদ অর্থ কেটে রাখা হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয় না।

শিবপুর কাটাখালী গ্রামের কৃষক ঠান্ডা ফকির অভিযোগ করেন, তিনি ধান নিয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ২ মণ ধান দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি অন্য কৃষকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

খড়মখালী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেও তিনি সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ধান গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে ধান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়।

হিজলা গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক বলেন, কর্মকর্তার অসদাচরণ ও হয়রানিতে তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আড়ুয়াবর্ণী গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল হকের দাবি, খাদ্য গুদাম চত্বর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা কৃষকদের ধান গ্রহণ করা হয় না এবং ঘুষ বাণিজ্যও তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিতলমারীর ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল প্রথমে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে ফিরে এসে সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

চিতলমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে অবহিত করেছেন। তিনি বর্তমানে অফিসের বাইরে থাকায় পরদিন অফিসে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

এদিকে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো কৃষক লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close