গাজীপুর মহানগরের গাছা রোড এলাকার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে জুমার নামাজের আগে নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ববর্তী কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বড়বাড়ি এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল আওয়াল সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে বহুতল ভবনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা কমিটি মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, সাধারণ মুসল্লিদের দাবির মুখে ২০২৫ সালের ২৮ জুন পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি এবং হিসাব যাচাইয়ের জন্য ৩ সদস্যের অডিট কমিটি গঠন করা হয়। তবে অডিট কমিটির একাধিক লিখিত নোটিশ সত্ত্বেও সাবেক কমিটির দায়িত্বশীলরা প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র ও নথি হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একটি পক্ষ রাতের আঁধারে একতরফাভাবে একটি কমিটি ঘোষণার চেষ্টা চালায়। এতে মসজিদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বক্তারা মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—বর্তমান বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, পূর্ববর্তী কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, গত তিন জুমার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মসজিদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে মসজিদে নতুন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দাতা পরিবারের সদস্য, বর্তমান মোতাওয়াল্লী ও সাধারণ মুসল্লিদের না জানিয়ে একদল বহিরাগত ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এক বয়োজ্যেষ্ঠ অসুস্থ ব্যক্তির মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষিত কমিটিতে গাছা থানা যুবদলের নেতা সোলাইমান সরকারকে সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. মোমিনুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি অভিযোগ করেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে এবং গত কয়েক জুমায়ও বহিরাগতদের এনে একই ধরনের কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান মোতাওয়াল্লী মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের বিধি অনুযায়ী ১৯৮৫ সালে তিনি বৈধভাবে মোতাওয়াল্লী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং সেই দায়িত্ব এখনো বহাল রয়েছে। তার দাবি, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ না করেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে পূর্ববর্তী পরিচালনা কমিটি মসজিদের নামে বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করলেও তার স্বচ্ছ হিসাব সাধারণ মুসল্লিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী মো. ফজলুল হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তানভীর আহমেদ, সদস্য আমিনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:


.jpg)





