মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন

সবুজ সরকার সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন
ছবি বাংলা এডিশন

জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে অন্যের জমিতে দিনভর মাটি কেটে সংসার চালিয়েছেন। আজ বয়সের ভার আর অসুস্থতায় বিছানাই হয়ে উঠেছে ৯০ বছরের নামদার আলীর পৃথিবী। আর তার পাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছেন ৮০ বছরের স্ত্রী বুলু বেগম। নিজের শরীরও আর সায় দেয় না, তবুও ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধে প্রতিদিন স্বামীর মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিচ্ছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মেঘাই গ্রামের এই বৃদ্ধ দম্পতির গল্প যেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে টিকে থাকার এক নীরব সংগ্রামের গল্প।

জরাজীর্ণ ঘরে টিকে থাকার লড়াই

নিজেদের মাথা গোঁজার মতো একটি ঘরও নেই। অন্যের জমিতে পাটখড়ির বেড়া আর পুরোনো টিনের তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরেই কোনোমতে আশ্রয় তাদের। ঘরে নেই পর্যাপ্ত খাবার, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা কিংবা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। অনেক দিন ধরেই নিয়মিত চুলা জ্বলে না। প্রতিবেশীরা যে সামান্য খাবার দিয়ে যায়, তা দিয়েই কোনোমতে দিন কাটে। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই এই বৃদ্ধ দম্পতির। নামদার আলীর স্ত্রী বুলু বেগম এ কথা জানান।

প্রতিবেশীদের সহায়তায় চলছে সংসার

দুটি মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন তারা দুজনই একে অপরের ভরসা। অসুস্থতা আর অভাবের মাঝেও প্রতিবেশীদের সামান্য সহায়তাই তাদের বেঁচে থাকার শক্তি হয়ে আছে।

সরকারি সহায়তার আশ্বাস

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

কামারখন্দের ইউএনও বিপাশা হোসাইন বাংলা এডিশনের সবুজ সরকারকে এ কথা বলেন।

জীবনের প্রায় পুরো সময় কঠোর পরিশ্রম করেই কাটিয়েছেন নামদার আলী। কিন্তু শেষ বয়সে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তাও নেই তার। এই অসহায় দম্পতির পাশে যদি সমাজের বিত্তবান মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে, তবে হয়তো জীবনের শেষ কয়েকটি দিন স্বস্তি আর মর্যাদার সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাবে তারা।



banner close
banner close