চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কালুপুর বেইলি ব্রিজের পাশে নির্মাণাধীন প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন সেতুর কাজ গত তিন মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি ব্রিজ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। ভারী যানবাহনকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় বাড়ছে সময়, ব্যয় ও জনদুর্ভোগ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে প্রায় তিন মাস ধরে দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়েই সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনসহ ব্যবসা বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু প্রতীক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো ব্রিজ পার হতে হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি ফিরবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাহিন আলম বলেন, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ নয়। ভূমি অধিগ্রহণ এবং কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। জটিলতা নিরসন হলে পূর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই কাজের গতি থেমে আছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নির্মাণকাজ আবারও শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় চলছে। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ স্বাভাবিক গতিতে শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর মতে, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটি চালু হলে শিবগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জটিলতার সমাধান করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
আরও পড়ুন:


.jpg)





