বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রোববার সকালে ডিবি কার্যালয়ের টয়লেট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আসাদ সারিয়াকান্দি উপজেলার সিএনজি চালক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে নাস্তা করার পর তিনি ডিবি কার্যালয়ের টয়লেটে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় বাইরে না আসায় ডিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তারা। দ্রুত তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া এলাকা থেকে সিএনজি চালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তার অটোরিকশাটিও নিখোঁজ ছিল। পরে ১ জুলাই নিহতের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তে আসাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করে ডিবি।
ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছিল। এর আগেই ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে তার মৃত্যু হয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন রায়হান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম জানান, মরদেহে গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:






.jpg)

