নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি খনন প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাহমান ধাইজান নদীকে কাগজে-কলমে খাল দেখিয়ে সরকারি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বদলে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে।
প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি প্রকল্পের প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর পরিবর্তে মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশে যন্ত্র দিয়ে খনন করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে পড়ায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ধাইজান নদীর উৎপত্তি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দড়িভিজা বিলাঞ্চল থেকে। প্রায় ৫০ মিটার প্রশস্ত এই নদীকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী হিসেবেই তালিকাভুক্ত করেছে। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাগজপত্রে এটিকে খাল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা আইনি ও প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ধাইজান নদীর প্রায় ২৯ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়েছিল। অথচ বর্তমান প্রকল্পে শুধুমাত্র পুটিমারী ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার অংশে খননকাজ পরিচালনা করায় প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলামও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো নদী বাদ দিয়ে অল্প অংশে খনন করায় কৃষি, সেচ কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো বাস্তব সুফল মিলবে না। বরং নদীর মাঝখানে খণ্ডিতভাবে খনন করায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দাদের দাবি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পে অধিকাংশ কাজই যন্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন শ্রমিকরাও। এছাড়া নিম্নমানের কাজের কারণে খনন শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ধসে পড়ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, তাদের দপ্তরের নথিতে ধাইজান একটি নদী। কয়েক বছর আগেই প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি পুনঃখনন করা হয়েছে। তাই এটিকে খাল হিসেবে দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে নীলফামারীর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ছোট নদী বা জলপ্রবাহও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই কর্মসূচির আওতায় আনা যেতে পারে। তবে ধাইজান নদী না খাল, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।
একই জলধারাকে এক সরকারি দপ্তর নদী এবং অন্য প্রকল্পে খাল হিসেবে উল্লেখ করায় পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন:







