শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বন্যার শঙ্কায় এবার আরও ছয় জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:০৭

শেয়ার

বন্যার শঙ্কায় এবার আরও ছয় জেলা
ছবি সংগৃহীত

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আশঙ্কা করছে, সোমবার (২০ জুলাই) থেকে বুধবার (২২ জুলাই) দেশের আরও ছয় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (১৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সোমবার (২০ জুলাই) থেকে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

কুশিয়ারা দুই পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া সুরমা নদীর ছাতক এবং কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতির সম্ভাবনা নেই। আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উজানের ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি

বন্যা পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উজানের ভারী বৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিন দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও এর প্রভাবে আগামী তিন দিন রংপুর ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে সোমবার (২০ জুলাই) থেকে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



banner close
banner close