শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

‎নেপাল পালানোর সময় কাস্টমস সার্ভার হ্যাকের মূল কারিগরি হোতা গ্রেফতার ‎

বিবি মরিয়ম, চট্টগ্রাম:

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৭

শেয়ার

‎নেপাল পালানোর সময় কাস্টমস সার্ভার হ্যাকের মূল কারিগরি হোতা গ্রেফতার

‎
ছবি সংগৃহীত

‎চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও সিগারেট চোরাচালানের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত মূল কারিগরি হোতা শেখ সেজানকে (২৬) গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।

‎​গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নেপাল পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত শেখ সেজান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার বাসিন্দা।

‎​শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফয়সাল আহমেদ।

‎​সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, চট্টগ্রামের বন্দর থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে শেখ সেজানের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে একটি মামলায় চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে ফেব্রিকস আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে একটি কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানির অভিযোগ রয়েছে।

‎অপর একটি ঘটনায়, অন্য একটি কনটেইনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করা হয়।

‎​তিনি আরও জানান, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র এই জালিয়াতির পেছনে কাজ করছিল। চক্রটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রনাধীন কাস্টমস হাউসের

‎অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পোর্টাল হ্যাক করে এই বিশাল চালান খালাসের চেষ্টা করছিল, যার মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়।

‎​তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে অত্যন্ত দক্ষ। সে সার্ভারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড জালিয়াতি করে অবৈধভাবে সিস্টেমে লগ-ইন করত। এই চোরাচালানের এলসি রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন করার ক্ষেত্রে সে-ই মূল কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছিল। এর আগে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া, ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া আসামি মো. আশরাফ হোসেন ওরফে রাজুর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও সেজানের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

‎​পুলিশের তথ্যমতে, শেখ সেজান একজন পেশাদার সাইবার অপরাধী। এর আগেও সে সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ ও করোনা টিকার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে সিএমপি ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম টিমের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা সংক্রান্ত ৭টি মামলা রয়েছে।

‎​উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এই দুই চোরাচালান মামলায় এ পর্যন্ত সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডাইরেক্টর ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেনসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close