ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিচিত ছিল। বহু প্রতীক্ষার পর সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩৮ লাখ টাকার টেন্ডার হলেও বাস্তবে প্রায় ১৬ লাখ টাকার মতো কাজ করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের বালু, ইট ও পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কাজের মান নিয়েও শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাজ চলাকালে এলাকার এক ঠিকাদারকে রাস্তার পাশের পুকুরসংলগ্ন অংশটি আরও মজবুতভাবে নির্মাণের অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সন্তোষজনক কোনো জবাব দেননি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজন—মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টেন্ডারের অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, কাজে যেখানে মাটি দেয়ার কথা ছিল সেখানে কন্ট্রাক্টর বালু ব্যবহার করেছে। এজন্য আমরা কাজটি একপর্যায়ে আটকে রেখেছিলাম। এছাড়া রাস্তার পাশের অংশেও কয়েকটি স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় কম কাজ করা হয়েছে। এক ইঞ্চি পুরুত্বে পিচ ঢালাইয়ের কথা থাকলেও অনেক জায়গায় তা মানা হয়নি। ফলে রাস্তা দুর্বল হয়ে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টেংকেরপাড় এলাকার ঠিকাদার রাহুল বলেন, এই কাজ করে আমি লাভ তো করিইনি, বরং প্রায় ৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আমি এসে যেসব জায়গায় ভেঙেছে সেগুলো ঠিক করে দেব।
এভাবে কতদিন পর্যন্ত মেরামতের দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক বছর পর্যন্ত রাস্তার কোনো অংশ নষ্ট হলে তা মেরামত করার দায়িত্ব আমার।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী সড়কটির নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং টেন্ডার বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই রাস্তা একাধিকবার সংস্কার করা হলেও তা বেশিদিন টিকেনা তাই তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জনগণের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হয়।
আরও পড়ুন:








