শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার নলকূপ, নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ৮ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৯

শেয়ার

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার নলকূপ, নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ৮ লাখ মানুষ
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, এ তিন উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১১০টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৮৫১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন উভয় ধরনের নলকূপই এ ক্ষতির আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় প্রায় ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার পানি, কাদা-মাটি ও পাহাড় ধসের কারণে হাজার হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। অনেক নলকূপে দূষিত পানি প্রবেশ করায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে নিরাপদ পানির সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলায় ৭ হাজার ১২৭টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৫টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ১১২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ১৫৬টি টয়লেট।

বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ লাখ মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেখানে ৮ হাজার ২৬টি নলকূপের মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় নলকূপের মুখ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া এবং দূষিত পানি প্রবেশ করায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

চন্দনাইশ উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৮০৮টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৭২টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ২৩৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬৬টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক নলকূপে এখনও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। ফলে বহু পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার পর দূষিত নলকূপ দ্রুত জীবাণুমুক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত, সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়া নলকূপ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

চট্টগ্রাম জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর উদ্যোগে জরুরি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



banner close
banner close