শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নূর আকসা মসজিদে কমিটি ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা: নেপথ্যে ছাত্রদল নেতা

মাহাবুবুর রহমান জিলানী, গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩১

শেয়ার

নূর আকসা মসজিদে কমিটি ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা: নেপথ্যে ছাত্রদল নেতা
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের গাছা রোড এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘নূর আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করে স্বার্থান্বেষী মহলের এমন অনভিপ্রেত আচরণে স্থানীয় মুসল্লি ও দাতা পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের দাতা পরিবারের সদস্য, বর্তমান মোতাওয়াল্লী এবং সাধারণ মুসল্লিদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একদল বহিরাগত লোক মসজিদে প্রবেশ করে। তারা এক অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও একতরফাভাবে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করায়।

ঘোষিত ওই কমিটিতে গাছা থানা যুবদলের নেতা সোলাইমান সরকারকে সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. মোমিনুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদল নেতা এস. এম. মোমিনুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছেন।

তার এই ধারাবাহিক উশৃঙ্খল আচরণেরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে পবিত্র এই ধর্মীয় স্থান মসজিদে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানকে বিতর্কিত করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এর আগেও গত দুই জুম্মাতেও পৃথকভাবে বহিরাগত লোকজন এনে জোরপূর্বক কমিটি ঘোষণার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন মোমিন ও তার সহযোগীরা।

মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী মো. ফজলুল হক তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রচলিত আইন ও বিধি মোতাবেক ১৯৮৫ সালে আমাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে বৈধ নিযুক্ত করা হয়, যা অদ্যাবধি আইনত বহাল রয়েছে। অথচ সেই আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদের নামে বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করলেও তার কোনো সঠিক হিসাব দেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী আবুল হাশেম সরকারের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর আওয়াল সরকার বলেন,আমার বাবা দীর্ঘদিন এই মসজিদের সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি নিজেও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য। অথচ আজ কমিটি গঠন করা হবে-এই বিষয়ে আমাকে, বর্তমান মোতাওয়াল্লী ফজলুল হক কিংবা দাতা পরিবারের কাউকেই ন্যূনতম অবহিত করা হয়নি। জুম্মার নামাজ আদায় করতে এসে দেখি এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এমনকি ইমাম সাহেব এবং সাধারণ মুসল্লিদের সাথেও অত্যন্ত মারমুখী ও অশালীন আচরণ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে গাছা রোড এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দাবি, কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা পেশীশক্তি খাটিয়ে নয়, বরং প্রচলিত ওয়াকফ আইন ও মসজিদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হোক।

এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রাব্বানী জানান, ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close