ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের একাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর কয়েক দফায় অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও অভিযোগগুলো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বাড়ির দরজা-জানালা, দেয়াল ও ঘরের টিন ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেক পরিবারের সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় স্থানীয় আধিপত্য ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হন সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানীর এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তাঁর ভাই শামীম শেখ আলফাডাঙ্গা থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের রাতেই প্রথমে উকিল শেখের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের পর প্রতিপক্ষের আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখ এবং মুরাদ খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহত সুমন শেখ মুরাদ খানের পক্ষের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুদ্দুস শেখ, হুসাইন শেখ, উকিল শেখ, এনায়েত শেখ, জনি শেখ, আলিম শেখ, শাহাদাৎ শেখ, আজগর শেখ, উজ্জ্বল শেখ ও রকিব শেখের বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলাকারীরা ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ির টিনও খুলে নিয়ে যায়।
আলিম শেখের স্ত্রী শাপলা বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তবে হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শামীম শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের অধিকাংশই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো তাঁদের পরিবারকেই বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির ফাইজুর রহমান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, হত্যা মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর পুলিশ লাইনস থেকে একটি বিশেষ দল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। এদিকে হত্যা মামলার তদন্তভার ইতোমধ্যে আলফাডাঙ্গা থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








