শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

জামিনে বেরিয়ে আবারও ভিজিএফ কার্ড প্রতারণা

জসীম উদ্দীন, চাপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫৪

শেয়ার

জামিনে বেরিয়ে আবারও ভিজিএফ কার্ড প্রতারণা
ছবি সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে ও অগ্রিম অর্থ নিয়ে চাল বিতরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয় মাসকুরা ট্রেডার্সের মালিক জেসমিন আক্তার ও তার সহযোগী কামরুল হাসান মিদুল। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

পুনরায় প্রতারণার অভিযোগ

এর আগে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীদের ব্যানারে জেলা শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে মামলার পরও কার্যক্রম বন্ধ না করে পুনরায় একই পদ্ধতিতে চাল বিতরণ শুরু করেছে চক্রটি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয় শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবারও কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন বলছে এবার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতারণার কৌশল

অভিযোগ অনুযায়ী জাবরী কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার খুচরা ব্যবসার নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাসকুরা ট্রেডার্সের ট্রেড লাইসেন্স নেন। পরে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে প্রতি মাসে ৪৫০ টাকায় ২৫ কেজি চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সদস্যপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন কামরুল হাসান মিদুল। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এরপরও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ভুক্তভোগীদের দুর্দশা

অন্যদিকে নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে এখনো বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারণার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছে তারা।

তবে সম্প্রতি চাল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কিছু উপকারভোগী। তাদের দাবি নিয়মিত চাল পেলে তারা উপকৃত হবে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত কামরুল হাসান মিদুল দাবি করেন জনগণের সেবার উদ্দেশ্যেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে হয়রানিমূলক বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন সরকারি ভিজিএফ বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সেবা দেওয়ার অনুমতি নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ জানান অনুমোদনহীনভাবে চাল বিতরণের অভিযোগে এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জামিনে মুক্তির পর পুনরায় চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়ায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ না হলে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাবি ও উদ্বেগ

সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও মাসকুরা ট্রেডার্সের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগকারীদের দাবি প্রায় ২০ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা আর কেউ করতে না পারে।



banner close
banner close