শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সরবরাহ সংকটে চড়া সবজির বাজার, বেড়েছে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৬

শেয়ার

সরবরাহ সংকটে চড়া সবজির বাজার, বেড়েছে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম
ছবি সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে পেঁয়াজ ও ফার্মের ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শশা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে তুলনামূলক কম দামের মূলা ও লাউও বেড়ে যথাক্রমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং ৮০ থেকে ৯০ টাকা প্রতি পিসে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপে তুলনামূলক সস্তা রয়েছে; প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির সাম্প্রতিক বাজারদর প্রতিবেদনে চাল, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন ও কাঁচামরিচসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তথ্যও উঠে এসেছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মাসুদ মোল্লা বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি রাজধানীতে সবজিবাহী ট্রাক পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ক্রেতা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

সবজির পাশাপাশি দেশি রসুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে ৯০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া দেশি রসুন বর্তমানে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সরু চাল (নাজির বা মিনিকেট) প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং মোটা চাল (স্বর্ণা বা চায়না ইরি) ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দাম অপরিবর্তিত থেকে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা কমে বর্তমানে পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। তবে ফার্মের বাদামি ডিমের দাম কিছুটা কমে প্রতি হালি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টিপাত কমে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে।



banner close
banner close